📢 সুখবর! এবার আসছে ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’, বড় বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু সরকারের
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’: সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ৪.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ
ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৬:
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণ প্রকল্পের দিকে আরও এক ধাপ এগুলো সরকার। এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আজ বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানান।
মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক অগ্রগতি ও বাজেট পরিকল্পনা
সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন ও শক্তিশালী করতে এই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
- বরাদ্দকৃত অর্থ: ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা (৪.৫ কোটি টাকা)।
- অর্থায়নের উৎস: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাজেট।
- উদ্দেশ্য: সেতুর চূড়ান্ত নকশা, ভৌগোলিক অবস্থান, পরিবেশগত প্রভাব এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য নতুন ও আধুনিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা।
- এডিপি স্ট্যাটাস: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সেতুটি নির্মাণের জন্য এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলেও, প্রকল্পটি এডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কেন এই ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ গুরুত্বপূর্ণ?
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে বর্তমানে ফেরি সার্ভিসের ওপর দেশের একটি বিশাল অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভরশীল। প্রথম পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মুন্সিগঞ্জ-মাদারীপুর রুটে চাপ কমলেও, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট জেলার জন্য এই রুটটি এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. যানজট ও ভোগান্তি নিরসন
বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে প্রায়শই কুয়াশা, তীব্র স্রোত কিংবা ফেরি স্বল্পতার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সেতু নির্মিত হলে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন কোনো রকম অপেক্ষা ছাড়াই সরাসরি পারাপার হতে পারবে।
২. অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি
এই সেতুটি চালু হলে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা এবং রাজবাড়ীসহ আশেপাশের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। কৃষি পণ্য ও শিল্প সামগ্রী দ্রুততম সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
৩. আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি
প্রস্তাবিত এই সেতুটি ভবিষ্যতে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা
সংসদে জানানো তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দ্রুতই আন্তর্জাতিক মানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হবে। এই সমীক্ষা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সেতুর দৈর্ঘ্য, মূল সেতুর কাঠামো, সম্ভাব্য ব্যয় এবং নির্মাণকাজের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
অবহেলিত এই রুটের কোটি কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সরকারের এই অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ।
#দ্বিতীয়পদ্মাসেতু #পদ্মাসেতু২ #PadmaBridge2 #SecondPadmaBridge #MegaProjectBD
