‘আমি যখন জেলে, হানজালা তখন বিড়াল হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায়; হায়েনা থামানোর ওষুধ জানা আছে’: রাশেদ
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালার ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। সোমবার (২২ জুন) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের সময় হানজালা আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিলেন, অথচ বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার পর তিনি নিজেকে আন্দোলনের পক্ষের শক্তি বা বড় বিপ্লবী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।
রাশেদ খানের এই বিস্ফোরক পোস্টের পর স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
‘বিড়াল হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সোফায় বসে থাকতেন’
সোমবার দেওয়া ওই পোস্টে রাশেদ খান মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যের অতীত ও বর্তমান ভূমিকার তুলনা করে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন:
"আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা হানজালা এখন বাঘের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় থাকতে চায়। গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছিল, ‘আমরা কিন্তু আন্দোলনে নাই’, তারা এখন নিজেদের বড় বিপ্লবী হিসেবে তুলে ধরছে।"
রাশেদ খান দাবি করেন, গত বছরের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত, অর্থাৎ ৫ আগস্টের আগে পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালার কোনো ধরনের আন্দোলনমুখী অবস্থান বা ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখেছিলেন। হানজালার বর্তমান সুরকে কটাক্ষ করে রাশেদ খান বলেন, "এই বিপ্লবীর হুংকার তো ৫ আগস্টের আগে কখনো শুনিনি। তখন তিনি বিড়াল হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সোফায় গিয়ে বসে থাকতেন।"
‘তারা যখন হাসিনার জিকির করত, আমরা তখন জেল খাটতাম’
আন্দোলনে নিজেদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও বর্তমান পরিস্থিতির বৈপরীত্য তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা আরও বলেন:
"আমরা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে উড়ে আসা বসন্তের কোকিল নই। দুই দিনের বৈরাগী এসব হানজালারা যখন ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হাজিরা দিত, আমরা তখন কোর্টে হাজিরা দিতাম। তারা যখন শেখ হাসিনার জিকির করত, আমরা তখন প্রশ্ন তুলেছি—এটা কি তার বাপের রাষ্ট্র? সেই কারণে জেলও খেটেছি।"
‘হায়েনাকে থামানোর ওষুধও আমরা জানি’
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান গুরুতর এক অভিযোগ এনে বর্তমানের কিছু কুচক্রী মহলের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপির মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
এমন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাশেদ খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "এসব মানুষখেকো হানজালারা হায়েনা হয়ে উঠতে চাইলে, হায়েনাকে থামানোর ওষুধও আমরা জানি।"
সমালোচনার মূল প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিএনপি নেতার এই কঠোর সমালোচনার পেছনে মূলত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে কিছু সুবিধাবাদী নেতার ‘অবস্থান পরিবর্তন’ বা ‘ভোল্ট পাল্টানো রাজনীতি’র চিত্র ফুটে উঠেছে। রাশেদ খানের এই বিস্ফোরক পোস্টের পর মাদারীপুর জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
- তৃণমূলের সমর্থন: বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী রাশেদ খানের এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। তাদের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় কার কী ভূমিকা ছিল, তা জাতির সামনে উন্মোচিত হওয়া জরুরি।
- এমপির অবস্থান: অন্যদিকে, সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার অনুসারীদের একাংশের দাবি, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের পুনর্বাসন ও অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে, রাশেদ খানের এই কঠোর সমালোচনা তারই একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ব্লগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের রিচ বাড়ানোর জন্য ৫টি ট্রেন্ডিং ও প্রাসঙ্গিক হ্যাশট্যাগ নিচে দেওয়া হলো:
#রাশেদ_খান
#এমপি_হানজালা
#মাদারীপুর
#বিএনপি
#রাজনৈতিক_বিস্ফোরণ
