Native Banner

২০২৬ বিশ্বকাপ: এবার জাপানের কাছেই হারবে ব্রাজিল? কী বলছে জার্মানির গাণিতিক মডেল!

একটি পাশাপাশি জোড়া ছবি, যেখানে বাম পাশে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি পরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাথায় আঙুল ঠেকিয়ে গোল উদযাপন করছেন এবং ডান পাশে জাপানের গাঢ় নীল জার্সি পরা ফুটবলার আয়াসে উয়েদা মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো জয়ের স্বাদ না পাওয়া জাপান এবার ইতিহাস বদলাতে মরিয়া। আগামী ২৯ জুন হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর মহালড়াইয়ে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে 'ব্লু সামুরাই'রা। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেছে এক জার্মান গবেষকের ভবিষ্যদ্বাণী, যা সেলেসাও ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ক্লেমেন্টের গাণিতিক মডেল ও ব্রাজিলের বিদায়ঘণ্টা

জার্মান অর্থনীতিবিদ ও গবেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, যিনি ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের সফল ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছেন, তার বিশেষ গাণিতিক মডেলে এবার ব্রাজিলের বিদায় দেখছেন। শুধু ফুটবলীয় পারফরম্যান্স নয়, বরং দেশের জনসংখ্যা, মাথাপিছু জিডিপি এবং আবহাওয়ার মতো সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে তৈরি এই মডেল বলছে—দ্বিতীয় রাউন্ডেই জাপানের কাছে কাটা পড়বে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত তার গবেষণাপত্র অনুযায়ী এবারের আসরে নেদারল্যান্ডসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অবশ্য নকআউট পর্বের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্লেমেন্টের কিছু সমীকরণ বাস্তবতার সাথে মেলেনি, তবুও ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ নিয়ে তার এই পূর্বাভাস ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে জাপান

পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক ফর্ম জাপানের এই আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে টোকিওতে এক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল তারা। সেই ম্যাচের পর থেকে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা। এই পথচলায় তারা ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে, উদ্বোধনী ম্যাচে রুখে দিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে এবং তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এশীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে চার গোল করার কীর্তি গড়েছে। গ্রুপ পর্বে সুইডেনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে রানার্সআপ হওয়া জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি মনে করেন, এই অপরাজিত থাকার মানসিকতাই ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

অতীত থেকে শিক্ষা ও জিকোর মূল্যায়ন

২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ তে এগিয়ে থেকেও হার কিংবা ২০২২-এ জার্মানি-স্পেনকে হারিয়েও ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে বিদায়—জাপানের অতীত কেবলই আক্ষেপের। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত জাপানের কোচের দায়িত্ব পালন করা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোও বর্তমান দলটির মানসিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, জাপান এখন আর কেবল সম্ভাবনাময় দল নয়, বরং যেকোনো পরাশক্তিকে হারানোর সামর্থ্য রাখে তারা। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরার দারুণ এক লড়াকু মানসিকতা তৈরি হয়েছে এই দলে।

এশিয়ার ফুটবল বিপ্লব

জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু ব্রাজিল এবং তাদের কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। মোরিয়াসুর কাছে এই ম্যাচটি শুধু জাপানের নয়, পুরো এশিয়ার ফুটবলের জন্য এক বড় পরীক্ষা। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিফাইনালে খেলার গৌরবকে ছাড়িয়ে গিয়ে বাকি এশীয় দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হতে চায় জাপান।

কাগজে-কলমে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চকমকিতে ভরা ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণের জন্যই ত্রাস। গত সেপ্টেম্বরের হারের প্রতিশোধ নিতে সেলেসাওরা যে জানপ্রাণ দিয়ে লড়বে, তা বলাই বাহুল্য। তবে গাণিতিক হিসাবের মারপ্যাঁচ মাঠের লড়াইয়ে কতটা সত্যি হয়, নাকি অভিজ্ঞতার জোরে ব্রাজিলই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে—তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। হিউস্টনের মাঠে যে এক মহাকাব্যিক লড়াই হতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url