মোটা হলেই শাস্তি, না হাসলেই জরিমানা! বিশ্বের ৫টি দেশের পাগলাটে আইন!
আমরা যে সমাজে বাস করি, সেখানে আইন তৈরি হয় মানুষের নিরাপত্তা আর শান্তি বজায় রাখার জন্য। কিন্তু আপনি কি জানেন, পৃথিবীর বুকে এমন কিছু দেশ আছে যেখানে এমন সব অদ্ভুত আইন চালু রয়েছে যা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে? কোথাও চুইংগাম চিবানো অপরাধ, তো কোথাও আবার ওজন বেড়ে যাওয়াটা আইনের পরিপন্থী!
আজকের ব্লগে আমরা জানবো বিশ্বের ৫টি দেশের এমনই কিছু অদ্ভুত ও হাস্যকর আইন সম্পর্কে, যা আপনাকে অবাক করতে বাধ্য করবে।
১. সিঙ্গাপুর: চুইংগাম চিবানো যেখানে আইনত অপরাধ!
ভাবুন তো, পকেট থেকে একটা চুইংগাম বের করে মুখে দিলেন আর তার জন্য আপনাকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা দিতে হলো! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সিঙ্গাপুরে ১৯৯২ সাল থেকে চুইংগাম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কেন এই আইন? সিঙ্গাপুরের তৎকালীন সরকারের মতে, মানুষ চুইংগাম খেয়ে যেখানে-সেখানে, বিশেষ করে মেট্রোরেলের দরজায় বা সুইচে আঠা লাগিয়ে রাখত। এতে ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় দরজা বন্ধ হতে সমস্যা হতো এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হতো।
ব্যতিক্রম: বর্তমানে কেবল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন থাকলে (যেমন: নিকোটিন গাম) ফার্মেসি থেকে এটি কেনা যায় তাও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে
২. জাপান: মেটাবো আইন (Metabo Law) বা মোটা হওয়া নিষেধ!
ফিটনেসের জন্য জাপানিদের বিশ্বজোড়া নাম রয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, জাপানে আইন করেই মানুষকে ফিট থাকতে বাধ্য করা হয়? ২০০৮ সালে জাপানে 'মেটাবো আইন' পাস হয়।
কেন এই আইন? এই আইন অনুযায়ী, ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী পুরুষ এবং নারীদের কোমরের মাপ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পুরুষদের কোমরের বেড় সর্বোচ্চ ৩৩.৫ ইঞ্চি এবং নারীদের ৩৫.৪ ইঞ্চি হতে পারবে। এর বেশি হলে কোম্পানি বা স্থানীয় প্রশাসনকে জরিমানার মুখে পড়তে হয় এবং ওই ব্যক্তিকে ওজন কমানোর জন্য বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হয়। মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা।
৩. ইতালি (ভেনিস): কবুতরকে খাওয়ানো যেখানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ
ভেনিসের বিখ্যাত 'সেন্ট মার্কস স্কয়ার'-এর নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন? সেখানে হাজার হাজার কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দারুণ লাগে। কিন্তু ভুলেও যদি সেখানে কোনো কবুতরকে দানা খাওয়াতে যান, তবে পড়তে পারেন বড় বিপদে! ২০০৮ সাল থেকে ভেনিসে কবুতরকে খাওয়ানো নিষিদ্ধ।
কেন এই আইন? কবুতরের মল ভেনিসের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ভাস্কর্য এবং মার্বেলের তৈরি দালানকোঠার মারাত্মক ক্ষতি করছিল। এছাড়া এটি পরিষ্কার করতে প্রতি বছর সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হতো। এই আইন অমান্য করলে প্রায় ৭০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
৪. উত্তর কোরিয়া: ব্লু জিন্স পরা এবং আন্তর্জাতিক গান শোনা মানা!
উত্তর কোরিয়ার অদ্ভুত সব নিয়মের কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি। তবে ফ্যাশন আর বিনোদনের ওপর তাদের এই নিষেধাজ্ঞা সত্যিই অন্যরকম। সেখানে 'ব্লু জিন্স' বা নীল রঙের জিন্স পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কেন এই আইন? উত্তর কোরিয়া সরকার নীল জিন্সকে আমেরিকান সংস্কৃতির (Capitalism) প্রতীক মনে করে। তবে তারা কালো বা অন্য রঙের জিন্স পরার অনুমতি দেয়। এছাড়া সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি গান শোনা বা সিনেমা দেখার শাস্তি হতে পারে ভয়াবহ।
৫. মিলান (ইতালি): সবসময় মুখে হাসি রাখা বাধ্যতামূলক!
ইতালির মিলান শহরে একটি প্রাচীন আইন রয়েছে, যা অনুযায়ী শহরের প্রতিটি নাগরিককে সবসময় মুখে হাসি ধরে রাখতে হবে। হাসপাতালে থাকা রোগী এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় (জানাজা বা শ্মশানে) অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ছাড়া বাকি সবার জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য।
কেন এই আইন? ১৯ শতকে যখন অস্ট্রিয়ানরা এই অঞ্চল শাসন করত, তখন নাগরিকদের বিষণ্ণতা দূর করতে এবং শহরে একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে এই আইন করা হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো, আইনটি এখনো কাগজে-কলমে বাতিল করা হয়নি, তবে বর্তমানে এর জন্য কাউকে জরিমানা করা হয় না!
শেষ কথা
আইনগুলো অদ্ভুত হলেও, প্রতিটি দেশের এই নিয়মের পেছনে রয়েছে নিজস্ব কিছু সামাজিক বা ঐতিহাসিক কারণ। আপনার কাছে এই ৫টি আইনের মধ্যে কোনটিকে সবচেয়ে বেশি অদ্ভুত মনে হয়েছে? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান!
পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু!
